Wednesday, May 16, 2012
কাজুবাদাম
কাজুবাদাম খুবই সুস্বাদু। দারুণ স্বাদের এ বাদামের চাষ হয় দেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে। কাজুবাদামের উৎপত্তিস্থল ব্রাজিল। বর্তমানে প্রধানত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত, কেনিয়া, মোজাম্বিক, তানজানিয়া, মাদাগাস্কার প্রভৃতি দেশে কাজুবাদাম উৎপাদিত হয়ে থাকে। কাজুবাদামের বৈজ্ঞানিক নাম Anacardium occidentale। Anacardiaceae পরিবারের সদস্য এটি।
কাজুবাদাম সাধারণত ভেজে খাওয়া হয়। পাহাড়ি এলাকায় সাধারণত কাজুবাদামকে দা দিয়ে কেটে খুঁচিয়ে শাঁস বের করা হয়। তারপর রোদে শুকিয়ে বীজের আবরণ তুলে ফেলা হয়। লবণ-পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে তারপর ভাজা হয়। এতে লবণাক্ত স্বাদের কাজুবাদাম পাওয়া যায়। আর মিষ্টি স্বাদের কাজুবাদামের জন্য বাদাম ভাজার পর চিনির শিরায় ডুবিয়ে নেয়া হয়। বিভিন্ন খাদ্যের স্বাদ বাড়ানোর জন্যও কাজুবাদাম ব্যবহার করা হয়।
প্রতি ১০০ গ্রাম কাজুবাদামে ৩০.১৯ গ্রাম শর্করা, ১৮.২২ গ্রাম আমিষ, ৪৩.৮৫ গ্রাম চর্বি আছে। কাজুবাদামে বিভিন্ন ভিটামিন, লৌহ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, জিঙ্ক খনিজ উপাদান রয়েছে। পূর্ণবয়স্ক গাছ ১০ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। পাতা অর্ধডিম্বাকার, দেখতে অনেকটা কাঁঠালের পাতার মতো। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি ফুল ফোটার সময়। এপ্রিল থেকে জুন ফল সংগ্রহ করা হয়। কাজুবাদামের দৈর্ঘ্য ৪ থেকে ৫ সেন্টিমিটার। এর ওজন ৫ থেকে ২০ গ্রাম হয়ে থাকে।
Tuesday, May 15, 2012
কমলাবউ
কমলাবউ দোয়েল আকারের পাখি। লম্বায় ২১ থেকে ২২ সেন্টিমিটার। ওজন ৬০ গ্রাম। পুরুষ পাখির মাথার চাঁদি , ঘাড় ও বুকের রং গাঢ় কমলা। তাতে আছে হালকা হলুদের ছোঁয়া ও লালচে আভা। পেট ও লেজের নিচটা সাদা। পিঠ ও লেজের ওপরটা নীলচে-ধূসর। ডানার প্রান্তে রয়েছে কয়েকটি সাদা দাগ। স্ত্রীটি দেখতে পুরুষটির মতোই, তবে বুকের রং একটু ফিকে এবং পিঠ ও লেজ ছাইরঙা। স্ত্রীপুরুষ নির্বিশেষে ঠোঁট কালচে; পা ও আঙুল হালকা গোলাপি। মায়াবী চোখের মনি পিঙ্গল। বাচ্চাগুলোর রং গাঢ় ধূসর, তার ওপর কমলা ছোপ।
"কমলা-মাথা থ্রাস" (Orange-headed Thrush)। এ দেশে 'কমলা দামা', 'কমলাফুলি' বা 'কমলা দোয়েল' নামেও পরিচিত। ফকিরহাটে 'মেটে দোয়েল' বা 'কমলাবউ' বলে। বৈজ্ঞানিক নাম Zoothera Citrina।এরা বেশ লাজুক। মানুষের চোখের আড়ালে ঝোপ-জঙ্গল, বন-বাগান, বাঁশঝাড়ের স্যাঁতস্যাঁতে নির্জন পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। এপ্রিল থেকে জুন প্রজননকাল। এক থেকে পাঁচ মিটার উঁচু কোনো গাছের ঘন পাতাওয়ালা দুই ডালের ফাঁকে শুকনা পাতা, মস, ঘাস, সরু শিকড় ও মাতি দিয়ে চায়ের পেয়ালার মতো বেশ মজবুত বাসা বানায়। স্ত্রী কমলাবউ তিন-চারটি গোলাপি ডিম পাড়ে। তাতে থাকে নীলচে ও ফিকে আভা আর সামান্য ছিট-ছোপ। ডিম ফোটে ১৪ দিনে। বাচ্চারা উড়তে শেখে ১০ দিনে।
"কমলা-মাথা থ্রাস" (Orange-headed Thrush)। এ দেশে 'কমলা দামা', 'কমলাফুলি' বা 'কমলা দোয়েল' নামেও পরিচিত। ফকিরহাটে 'মেটে দোয়েল' বা 'কমলাবউ' বলে। বৈজ্ঞানিক নাম Zoothera Citrina।এরা বেশ লাজুক। মানুষের চোখের আড়ালে ঝোপ-জঙ্গল, বন-বাগান, বাঁশঝাড়ের স্যাঁতস্যাঁতে নির্জন পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। এপ্রিল থেকে জুন প্রজননকাল। এক থেকে পাঁচ মিটার উঁচু কোনো গাছের ঘন পাতাওয়ালা দুই ডালের ফাঁকে শুকনা পাতা, মস, ঘাস, সরু শিকড় ও মাতি দিয়ে চায়ের পেয়ালার মতো বেশ মজবুত বাসা বানায়। স্ত্রী কমলাবউ তিন-চারটি গোলাপি ডিম পাড়ে। তাতে থাকে নীলচে ও ফিকে আভা আর সামান্য ছিট-ছোপ। ডিম ফোটে ১৪ দিনে। বাচ্চারা উড়তে শেখে ১০ দিনে।
Monday, May 14, 2012
মাতৃস্নেহ
![]() |
| চিত্রঃ পাপ্পু ভট্টাচার্য্য |
১৩ মে রবিবার ছিল বিশ্ব মা দিবস। সন্তানের প্রতি মাতৃস্নেহ চিরন্তন। এই স্নেহ-মমতার বন্ধন কেবল মানুষের মধ্যেই সীমিত, তা নয়। প্রাণীর ক্ষেত্রেও যে এর ব্যতিক্রম নেই, এ ছবিতে তা-ই প্রস্ফুটিত। মা বুলবুল নিজে না খেয়ে মুখে করে খাবার এনেছে তার নীড়ের ছোট্ট ছানা দুটোর জন্য। নারায়ণগঞ্জের নতুন পালপাড়া থেকে দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দী করা হয়েছে।
Sunday, May 13, 2012
বুনো খরগোশ
অতিনিরিহ, ভীতু, বোকা ও অকারণে উত্তেজনায় ভোগা সুন্দর এক প্রাণী হল বুনো খরগোশ। লম্বা-সুদর্শন কান, টলমলে মায়াবী দুটি চোখ। লম্বা দুই কানে এরা চমৎকার কানতালি বাজাতে পারে। দারুন লম্ফবিদ; এমখকি লাফ দিয়ে দুই-তিন হাত উঁচু বাধা টপকে যেতে পারে অনায়াসে। মানুষ বা কুকুরের ধাওয়া খেলে এরা দৌড়ে গিয়ে কোন ঝোপঝাড়ে মাথা গুঁজে দিয়ে ভাবে- দেখবে না শত্রুরা। শরীরের পেছন দিকটা পড়ে যায় শত্রুর কবলে। ধরা পরলে এরা চেঁচায়, হাত-পা ছোড়ে, কামড়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। চোখ বেয়ে কখনো কখনো জল গড়ায়, হয়তো বা কাঁদে। দ্রুতগামী খরগশের মাথায় যদি একটা ছোট্ট ঢিলও আঘাত করে, লুটিয়ে পড়ে, মারা যায় সঙ্গে সঙ্গে।
সারা দেশেই এরা ছিল বহাল তবিয়তে, অন্তত ১৯৭০ সাল পর্যন্ত। খড়বন, কাশ-ঘাশবন, পানের বরজ, খোলা মাঠের উঁচু জায়গার ঝোপঝাড় ও গ্রামীণ বাগানের কিনারের ঝোপঝাড় এদের প্রিয় আবাসস্থল। অল্প জায়গায় আত্মগোপনে পারদর্শী এরা। আখখেত এদের অতিপ্রিয় আবাসভূমি। কুষ্টিয়ার আখমহলে আজও এরা আছে। আছে বৃহত্তর সিলেট-চট্টগ্রামে।
Subscribe to:
Posts (Atom)






