Pages

Thursday, May 31, 2012

মেঠো কাঠঠোকরা


নিরীহ ধরনের চাহনি, চলাফেরায়ও কেমন যেন একটা অলস অলস ভাব—নেই চঞ্চলতা বা ব্যস্ততা, যেন বা আপন কাজে দারুণ মগ্ন এক অসাবধানি পাখি। খাবারের খোঁজে মাটির ওপর দিয়ে ছোট ছোট লাফে সামনে এগোবে, মাঝে মাঝে লেজ নাচাবে। ইংরেজি নাম Eurasian wrynreck। বৈজ্ঞানিক নাম Junx torquilla। মাপ ১৬-১৭ সেন্টিমিটার। মূলত খাবার সংগ্রহ করে মাটি থেকেই। উইপোকা এবং এর ঢিবির সন্ধান পেলে আনন্দে আত্মতৃপ্তিতে এরা গলায় তোলে একধরনের চাপা শব্দ। পিঁপড়ে এবং এর ডিম-বাচ্চা, পোকা-পতঙ্গই মূল খাবার। খেজুরের রস নলি বেয়ে মাটিতে পড়ে জমা হলে সেখানেও ঠোঁট চালায়।
উদাস ধরনের পাখি বটে—দারুণ চতুর-বুদ্ধিমান ও সতর্ক পাখি এরা। মনে হয় কিছুই বোঝে না! আসলে বহু চতুর পাখির চেয়েও এরা বেশি বোঝে। গুইসাপ-বেজি-বনবিড়ালও এদের পাকড়াও করতে পারে না। বিপদের গন্ধ পেলে স্থির হয়, মড়ার মতো শরীর এলিয়ে দিতে পারে। কাছে গেলে ফুড়ুৎ। প্রয়োজন ছাড়া ডাকে না এরা—ডাকতেও যেন এদের কষ্ট। শীতে প্রায় সারা দেশেই কমবেশি দেখা মেলে এই পাখিদের।

Tuesday, May 29, 2012

সপ্তাশ্চর্য


জলপ্রপাতটির নাম ইগুয়াজু। আর্জেন্টিনায় অবস্থিত জলপ্রপাতটি বিশ্বের নতুন প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের একটি বলে নির্বাচিত হয়েছে। ভোটাভুটির ভিত্তিতে ইগুয়াজু সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় স্থান করে নেয়। নতুন সপ্তাশ্চর্য নির্বাচন সংস্থার সভাপতি বার্নাড ওয়েবার গত শনিবার ২৬ মে ২০১২ইং তারিখে এ কথা জানিয়েছেন। সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ২০০৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ সালের জুলাই পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ভোট গ্রহণ করা হয়। প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের অপর ছয়টি নিদর্শন হল- আমাজান চিরহরিৎ বনাঞ্চল, ভিয়েতনামের হালং বে, দক্ষিণ কোরিয়ার জিজু উপদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়ার কুমোদো উপদ্বীপ, ফিলিপাইনের পুয়ের্তো প্রিন্সেসা আন্ডারগ্রাউন্ড রিভার ও দক্ষিণ আফ্রিকার টেবিল পর্বত।

Monday, May 28, 2012

ক্যাকটাস


রাঙামাটির রাজদ্বীপ পাড়ায় ফুটেছে এক প্রজাতির ক্যাকটাস ফুল। হালকা বেগুনি ও সাদা রঙের ফুলগুলো ভোররাতে ফোটে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলগুলো ঝরে পড়ে।

Saturday, May 26, 2012

পরীক্ষক বাঁদর


বাঁদরের চেয়ে ভালো বাঁদরামি আর কে জানে! নিজেদের নতুন বানানো গাড়িটি যে কতটা টেকসই, তা প্রমাণ করতে গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান হুন্দাই তাই তাদের গাড়িটি তুলে দিয়েছে বাঁদরের হাতে। তাও একটা-দুইটা নয়, পুরো একঝাঁক! মার্সিসাইডের নোউজলে সাফারি পার্কের এই বাঁদরগুলোর আবার দর্শনার্থীদের জ্বালাতন করার ব্যাপারে বিশেষ সুখ্যাতি(!) রয়েছে! বাঁদররাও তাই নতুন গাড়িটিকে আঁচড়ে-কামড়ে আপ্যায়ন করেছে যথেষ্ট! তবে এই কঠিন পরীক্ষায় শেষ অবধি মোটামুটি পাস নম্বর পেয়েই উতরে গেছে হুন্দাই। বাঁদররা একসময় ক্লান্ত হয়ে ফিরে গেলেও, অক্ষতই ছিল কোরিয়ান গাড়িটি।

Friday, May 25, 2012

পাখিফুল


ফুল দেখতে বিস্ময়কর বটে। পাখিফুল গাছের সবুজ পাতার ওপর গোলাকার লাল ফুল আমাদের জাতীয় পতাকার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। একে স্কারলেট ফ্লেম, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান মাউন্টেন রোজ অথবা ব্রাউনিয়া বলে অনেকে। বাংলায় কেউ কেউ ডাকে পাখিফুল, আবার কেউ কেউ ডাকে সুপ্তি নামে। আবার কারও কারও কাছে এ হচ্ছে পারিজাত। তবে আদি বাড়ি ভেনেজুয়েলায় বলে এর প্রচলিত নাম রোজ অব ভেনেজুয়েলা। জ্যামাইকার ইতিহাস লেখক প্যাট্রিক ব্রাউনের নামানুসারে এর নামকরণ ব্রাউনিয়া ককেসিনিয়া, পরিবার caesalpiaceae.
মাঝারি ধরনের গাছ। যতটুকু বাড়ে তাও খুব ধীরে। ব্রাউনিয়া বা পাখিফুল সৌন্দর্যে যেমন অসাধারণ, তেমনই সুন্দর এর পাতা। গাছে ফুল আসার আগে এর পাতা গোলাপি ও সবুজে মিলে একে অসাধারণত্ব পায়। নতুন পাতা দেখতে আমহার্স্টিয়া নবিলিস বা রাজ অশোক পাতার মতো। গাছে ফুল ধরলে আর চোখ ফেরানো যায় না। দুঃখ হলো—রাতে ফোটে, দিনে ঝরে পড়ে। ফুল শেষ হলে গাছটি কেমন মলিন রূপ ধারণ করে। সময়টাকে ফুল হারানোর বেদনায় গাছের শোক বলেও অভিহিত করা যেতে পারে!
নিসর্গী বিপ্রদাস বড়ুয়া ব্রাউনিয়া ককেসিনিয়ার পাখিফুল নামকরণ প্রসঙ্গে বলেছেন—পাখিফুলের এক থোকা পাতা ছোট নরম ডাল থেকে চমৎকার ঝুলে থাকে, যেন ঝুলে থাকা পাখির লেজ। তারপর দ্রুত রং পাল্টে যায় এবং পরে সোজা হয়ে মসৃণ সবুজ পাতার রূপ নেয়। তাই এর নাম পাখিফুল।
উত্তরা গণভবন ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ ছাড়াও পাখিফুল দেখতে হলে বসন্তে কার্জন হলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদ উদ্যান বাগান, রমনা পার্কের রমনা নার্সারি, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান ও বলধা গার্ডেনে চোখ রাখতে পারেন। শিশু একাডেমীর বাগান মধুর ক্যানটিনের সামনে। ধানমন্ডি ও গুলশান এলাকায়ও কিছু পাখিফুল হয়। আর আছে চট্টগ্রামের বৌদ্ধবিহারগুলোতে। বৌদ্ধদের কাছে পাখিফুল খুবই প্রিয়।

Wednesday, May 23, 2012

বলয়গ্রাস


জাপানের রাজধানী টোকিওর আকাশে সূর্যগ্রহণের দৃশ্য। ৯৩২ বছরের মধ্যে জাপানে এই প্রথমবারের মতো 'বলয়গ্রাস' সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।

Monday, May 21, 2012

লালখেনি

চিত্রঃ তানভীর খান

সুন্দরবন সংলগ্ন জেলাগুলোর জলজ ঝোপঝাড়বহুল বিল-ঝিল-হাওরসহ যেকোনো জলাশয়-খেতে দেখা যেতে পারে এই পাখিটি। পাখিটির নাম 'লালখেনি'। ইংরেজি নাম Ruddy-Breasted Crake. বৈজ্ঞানিক নাম  Porzana fusca. মাপ ২০-২১ সেন্টিমিটার। ওজন ৮০-১০০ গ্রাম।
একনজরে শরীরের রং এদের পোড়া ইটের মতো। তাতে লালচে বাদামি রঙের আভা মাখানো। গলা সাদা। পেটের দুপাশে ও লেজের তলায় আড়াআড়ি সাদা-কালো সরলরেখা টানা-রঙের চমৎকার সমন্বয়। লেজের ডগা ঘন ঘন নাড়ে। মাথায় খোঁট মারে ঘন ঘন। দৌড় ও লম্ফ দিতেও ওস্তাদ। অহেতুক উত্তেজনায় ভোগে সারাক্ষণ।
মোহনা-হ্রদের পারের ঝোপঝাড়ে এরা গেরিলা কৌশলে ঘুরে বেড়ায়। ডাকবে ভোরে অথবা সকালে, পাঁচ-সাতটি পাখি মিলে 'কিচির-কিচ' জাতীয় শব্দে ডাকবে। অন্য সময় চুপচাপ। শীতে রোদ পোহাবে। দুপুরে দোয়েল পাখির মতো অল্প জলে বুক-পেট ডুবিয়ে ডানা ঝাপটে গোসল করবে।
বাসা করে মাটির ওপরে- আখঘাসের পাতা ও অন্যান্য পাতা দিয়ে। ঝোপঝাড়, ঘাসবন, এমনকি ধানবনেও বাসা করে। ছয় থেকে আটটি ডিম পারে। ডিম ফোটে ২০ থেকে ২৪ দিনে। বাসা করে বর্ষাকালে।